Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin

মারজিয়ার ঘুরে দাঁড়ানো

0

 

আলোরপথ ২৪ ডটকম

পরীক্ষা চলছে। তখন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজিয়া আক্তার । এরই মধ্যে ভালো শিক্ষার্থী হিসেবে  সুনাম কুড়িছেয়ে স্কুলে ও পরিবারে। রাত ১১টা পর্যন্ত পড়াশোনা করে  সবে ঘুমিয়েছে মারজিয়া। কিছুক্ষণ পরেই মারজিয়ার মুখে হঠাৎ তীব্র জ্বালাপোড়া ।
ঘরের আলো জ্বালতেই দেখা গেল মারজিয়া অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে । মুখের নিচের অংশ থেকে গলা পর্যন্ত অ্যাসিড ছড়িয়ে পড়েছে । এরপর ঢাকায় অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা নিতে হয়েছে তাকে এক বছর ধরে । তবে পড়াশোনা ছেড়ে থাকতে পারেনি। পড়াশোনা করেছে হাসপাতালের বিছানায় বসেই ।
এমন দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল সেটা মারজিয়ার মুখেই শোনা যাক, ‘বাবার সঙ্গে তখন জমিজমা নিয়ে বিবাদ চলছিল এক প্রতিবেশীর। সেই সময়ে পরীক্ষার কারণে রাত জেগে পড়াশোনা করতাম। ঘটনার রাতেও ১১টা পর্যন্ত পড়েছি। এরপর ঘুমিয়ে পড়ি। জানালা খোলা ছিল। হঠাৎ দেখি চোখ-মুখে পানির মতো কিছু পড়ল, অমনি জ্বালাপোড়া শুরু হলো।’ প্রথম দিকে নিজেকে নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা হলেও তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে পরিবারের অুনপ্রেরণা । মারজিয়া বলেন, ‘বড় বড় মানুষ আমাকে তখন উৎসাহ দিতেন। আস্থা পেতাম। তাই ইচ্ছে ছিল, যেভাবেই হোক পড়াশোনাটা শেষ করব।’
গাজীপুরের মেয়ে মারজিয়া ২০০৬ সালে কাপাসিয়া উপজেলার সূর্যবালা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন । উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়েই অ্যাসিডদগ্ধ নারীদের জন্য প্রথম আলো ট্রাস্ট সহায়ক তহবিলের শিক্ষাবৃত্তি পান। শরীফ মমতাজউদ্দিন আহমেদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ২০০৯ সালে । এরপর উচ্চশিক্ষার পাশপাশি আবেদন করেন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায়। নিয়োগ পরীক্ষায় নিজের মেধার পরিচয় দিয়ে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন । এখন তিনি কাপাসিয়ার টোক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। নিজের গ্রামেরই এস এম লাবিবের সঙ্গে ২০১২ সালে মারজিয়ার বিয়ে হয় । তিনি নামিলা আনসারিয়া কামিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। মারজিয়া বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে আমার স্বামী ও তার পরিবার আমাকে নানাভাবে সহযোগিতা করছে। আগে থেকেই চেনাজানা থাকায় নিজেও স্বস্তি পাই। স্বামীর উৎসাহে শিক্ষকতার পাশপাশি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়ছি। এখন তো আমার মনে হয়, কোনো বাধাই ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। একজন মানুষের নিজের ইচ্ছাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।’

Share.

Comments are closed.