বাংলাদেশে দেখে নেয়ার রাজনীতি

0

 

আলোরপথ ২৪ ডটকম

বাংলাদেশ অবরোধ আর গ্রেপ্তার অভিযানে অস্থির হয়ে উঠেছে ৷ দেখে নেয়ার রাজনীতি  ৫ই জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে চলছে ৷ সরকার বিএনপি-জামায়াত জোটকে দমনে প্রশাসিন ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করছে ৷ আর টানা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি৷
একতরফা নির্বাচনের প্রথম বছরপূর্তি, অর্থাৎ ৫ই জানুয়ারি থেকে দেশ আবারো সংঘাতময় রাজনীতির দিকে যাচ্ছে ‘অবরুদ্ধ’ আছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া শনিবার রাত থেকে তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে ৷ সোমাবার দুপুরের পর থেকে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান নিয়েও শেষ পর্যন্ত রেহাই পাননি বিএনপির ভারপ্রপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পথে তাঁকে গাড়িসহ আটক করে গোয়েন্দা সদর দপ্তরে নিয়ে গেছে পুলিশ৷
এর আগে শনিবার রাতে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে তুলে নিয়ে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে পাহারা বসিয়েছে ৷ ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপির আন্তত পাঁচশ’ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে কয়েকদিনে৷ ঢাকায়  এখন আত্মগোপনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায়
সবাই দু’দিনে সারাদেশে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন৷ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে৷ মঙ্গলবার থেকেই বিএনপির লাগাতার অবরোধ শুরু হয়েছে ৷ এই অবরোধ তেমন তীব্র না হলেও, জনজীবনে রয়েছে তার নেতিবাচক প্রভাব৷ সাধারণ মানুষ আছেন আতঙ্কে৷ তাঁরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না৷ শাসক দলের নেতা-কমীরাও মাঠে আছেন৷ তাঁরা নেমেছেন প্রতিরোধে৷ তাঁরা বলছেন, ‘আমরা নাশকতাকে প্রতিরোধ করব৷’
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান  এই প্রেক্ষাপটে বলেন, ‘দেশে এখন দেখে নেয়ার রাজনীতি চলছে৷ বিরোধী মতকে দমন করা হচ্ছে ৷ আর এই দমনের জবাব দিতে গিয়ে বিরোধীরা কর্মসূচি দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা তেমন বাস্তবায়ন করতে পারছে না ৷
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না৷ ঈশ্বর যদি  তাদের মনে সুমতি দেন, তাহলে হয়ত এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যাবে৷’
হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘এ পরিস্থিতির প্রধান শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ৷ তাঁরা যদি কোনো দিন জেগে ওঠেন, তাহলেও হয়ত এই অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে৷’ তাঁর কথায়, ‘বাংলাদেশে এখন বিরোধিতার রাজনীতি নয়, প্রতিহিংসা আর দেখে নেয়ার রাজনীতি চলছে৷ এই রাজনীতি অব্যাহত থাকলে জাতির সামনে আরো চরম দুর্দিন অপেক্ষা করছে৷’
ড. শান্তনু মজুমদার  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক বলেন, ‘দু’টি দলই অতিমাত্রায় তাড়াহুড়ো করছে৷ সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য, আর বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য৷ ফলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে৷ এতে অবশ্য কোনো দলই লাভবান হচ্ছে না৷ বরং দুই দল সম্পর্কেই সাধারণ মানুষের খারাপ ধারণা বাড়ছে৷’ এ

ছাড়াও তিনি বলেন ‘এই সময় বিদেশ থেকে আসা কিছু রাজনৈতিক কথাও পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করছে’, ৷
ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ২০১৩ সালের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না৷ কিন্তুসেদিকেই যাচ্ছে পরিস্থিতি ।

 

Share.

Comments are closed.