এসএসসি পরীক্ষা থাকলেও আজ থেকে ৭২ ঘণ্টার হরতাল

0

 

আলোর পথ ২৪ ডট কম

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে বুধবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত সারা দেশে ৭২ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে।
এর মধ্যে  সোমবার থেকে শুরু হওয়ার কথা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এ অবস্থায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জোটের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার এ হরতালের ঘোষণা দেন। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল প্রথম দিনের পরীক্ষাই। এতে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন এসএসসি ও সমমানের ১৪ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত যদিও, অবরোধ কর্মসূচি থাকলেও পরীক্ষা গ্রহণ চলবে। আর হরতাল দেওয়া হলে পেছানো হবে সেদিনের পরীক্ষা।শিক্ষামন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী ও বিভিন্ন মহল ২০ দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন এসএসসি পরীক্ষার সময় অবরোধ বা হরতালের কর্মসূচি না দিতে।
রুহুল কবির রিজভী গতপরশু বিবৃতিতে এ বিষয়ে বলেন, ‘চলমান অবরোধ দেশে শান্তির জন্য, নিরাপত্তার জন্য, মানুষকে তার প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। কোনো চোখরাঙানি, হুমকি, যৌথ বাহিনীর “টার্গেট প্র্যাকটিস” আন্দোলনকারীদের অদম্য পথচলাকে থমকে দিতে পারবে না।’ তিনি সরকারকে দায়ী করেন বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিক ফল, পাসের হার বেশি দেখানোর জন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতার মূল কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে জাতিকে পঙ্গু করার জন্য।
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, শতকরা ৫ ভাগ ভোট নিয়ে আওয়ামী মহাজোট অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জনগণের দুর্ভাগ্যের কারণ হয়ে আছে। ১৬ কোটি মানুষের ভাগ্যের কথা ভেবে ভোটারবিহীন সরকার পদত্যাগ করলেই দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
অপর দিকে পরীক্ষার সময়ে হরতাল-অবরোধ শিথিল করা হবে কি না, জানতে চাইলে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, হরতাল-অবরোধের বিষয়ে ২০-দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটিতে সিদ্ধান্ত হবে। কারণ, সব কর্মসূচির সিদ্ধান্ত লিয়াজোঁ কমিটি নিয়ে থাকে।
যদিও ২০ দলের কোনো লিয়াজোঁ কমিটি আছে কি না, বা তাতে কারা কারা আছেন, তা স্পষ্ট নয়। তা ছাড়া আন্দোলন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় এবং কর্মসূচি ঘোষণায় জোটের সম্পৃক্ততা কতটা, গণমাধ্যমগুলো সে বিষয়েও অবহিত নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পরিস্থিতির কারণে এখন তো যাঁর যাঁর মতো করে বিভিন্ন জায়গায় আছেন। কোথাও বসা যাচ্ছে না। তাই জোটের শরিক দলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের যাঁদের পাওয়া যায়, তাঁদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে কর্মসূচি ঠিক করা হচ্ছে। আর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধ কর্মসূচি চলছে ৬ জানুয়ারি থেকে । নতুন সংসদ নির্বাচনের জন্য সংলাপ-সমঝোতার দাবিতে চলমান ২৫ দিনের অবরোধের মধ্যে চার দফায় হরতালও দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে ৭২ ঘণ্টার হরতাল আহ্বান সম্পর্কে গতপরশুর বিবৃতিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় উড়িয়ে দেওয়া ও তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি, পুলিশকে যেকোনো ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দেওয়া, অবরোধ চলাকালে ২১ নেতা-কর্মীকে হত্যা, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাড়ি-গাড়িতে হামলা, সারা দেশে ১৫ হাজারের বেশি জোটের নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার ও দেড় লাখের বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের এবং সরকারি এজেন্ট দিয়ে পেট্রলবোমা মেরে সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে এ হরতাল দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্বশীল বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, হরতাল-অবরোধে সহিংসতার দুর্নাম কাটিয়ে সরকারের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে রাজধানী ঢাকায় বড় আকারে একটি ‘গণমমিছিল’ বা ‘গণসমাবেশ’ করার চিন্তা করেছিলেন আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত নেতারা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চলমান আন্দোলন দমনে ‘যা কিছু দরকার’ তা করার জন্য জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার পর ২০ দলের নীতিনির্ধারকেরা চলমান কর্মসূচি আরও শক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে এখনই গণমিছিল না করে হরতাল কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গতপরশু আরেক বিবৃতিতে রুহুল কবির রিজভী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গভীর আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি পুলিশি দমনের দায় গ্রহণ করেন, তাহলে সারা দেশই এখন বধ্যভূমিতে পরিণত হতে হবে। এই দায় গ্রহণের জন্যই পুলিশ, র‍্যাব, যৌথ বাহিনী মরণের বার্তা নিয়ে ঝটিকা আক্রমণ চালাচ্ছে পাড়ায়-মহল্লায়।
রিজভী অভিযোগ করেন, ক্ষমতার নেশায় প্রধানমন্ত্রী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষমতা ধরে রাখতে তিনি আইন, মানবতা, জনমত, শিষ্টাচার, বিশিষ্টজনদের পরামর্শ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ—কিছুই পরোয়া করছেন না। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা অনর্গল শুধু ‘দমন করো’ বুলি-গুলি আওড়ে যাচ্ছেন। আর এই ‘ধরো-মারোর’ ঘোষণায় দেশকে রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত করা হয়েছে।

Share.

Comments are closed.