Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin

খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু

0

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণার ১০ ঘণ্টার মাথায় বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল । ১৯ ঘণ্টা অন্ধকারে রাখার পররাত ১০টার দিকে আবার সংযোগ চালু করা হয়।
বিদ্যুতের খুঁটি থেকে তার খুলে দেওয়া হলে কার্যালয়টি অন্ধকারে ডুবে যায় শুক্রবার দিবাগত রাত  তিনটায় । এরপর গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে কার্যালয়ের কেব্ল টিভি ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হয়,তারপর বিকেলে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই এলাকার । অবশ্য রাতে তা আবার চালু হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শাইরুল কবির বলেন, রাতে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় এর কারণ জানতে চাইলে ডেসকোর লাইনম্যান বলেন, তিনি কিছু জানেন না। থানার নির্দেশে লাইন কাটতে এসেছেন।
গুলশান থানার পুলিশও বিষয়টি অবহিত নয় বলে দাবি করেছে। কিন্তু কেন, কী উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া হলো, আবার ১৯ ঘণ্টা পর চালু করা হলো, সরকারের পক্ষ থেকে তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। যোগাযোগ করা হলে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারেননি।
তবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার বাসার বিদ্যুৎ সরকার বিচ্ছিন্ন করেনি। আমাদের শ্রমিক-কর্মচারীরাই এটি বন্ধ করে দিয়েছে।’
বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া শাখার একজন সদস্য জানান, গতকাল রাত ১০টার পর চার-পাঁচজনের একটি দল হঠাৎ এসে বিদ্যুৎ-সংযোগ চালু করে দিয়ে দ্রুত কেটে পড়ে। এদের মুখ গামছা দিয়ে ঢাকা ছিল।
নৌপরিবহনমন্ত্রী শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন । তিনি এও বলেন, ওই কার্যালয় এমনভাবে অবরুদ্ধ করা হবে, যাতে খালেদা জিয়া না খেয়ে মরে পড়ে থাকবেন।
এদিকে পুলিশ গতকাল খালেদা জিয়ার কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় বিএনপির ১৩ জন নারী সদস্যকে আটক করে । সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ছয় নারী আইনজীবী কর্মী, সাড়ে সাতটায় খালেদা ইয়াসমিন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য, সাড়ে আটটায় পুলিশ আরও ছয়জন নারী কর্মীকে আটক করে । এ সময় কার্যালয়ের পেছনের ফটক টপকে আরও কিছু নারী কর্মী বের হয়ে যান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই কড়া নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেই দুটি ককটেল ফাটে রাত সাড়ে নয়টায় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের ৫০-৬০ গজ দূরে । কিন্তু পুলিশ গণমাধ্যমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, জনসভায় ঘোষণা দিয়ে গভীর রাতে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি দল ঘোষণা দিয়েছে, পানি, গ্যাস ও খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। সভ্য দুনিয়ার ইতিহাসে এ রকম ঘৃণিত ও জঘন্য নজির কোথাও পাওয়া যাবে না।
বিএনপির এই নেতা বিবৃতিতে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা, সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আসুন, দেখুন। ভোটারবিহীন এই সরকারের বদৌলতে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে কত ঘৃণ্য জঙ্গলিতন্ত্র কার্যকর হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কাছে আহ্বান জানাই, আপনারা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনুধাবন করে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।’
বিএনপির চেয়ারপারসন তাঁর কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেওয়ার ঘটনাকে ‘নিকৃষ্ট নিষ্ঠুরতা’ বলে মন্তব্য করেন। গতকাল কার্যালয়ে থাকা নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাঁর প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান। খালেদা জিয়া এ ঘটনায় ‘স্তম্ভিত’ জানিয়ে তিনি বলেন, বিনা নোটিশে নাগরিক সেবা বন্ধ করে দেওয়া মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।
ডেসকো কোনো বক্তব্য দেয়নি বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে ।
জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর থেকে বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে কার্যালয়ের গ্যাস ও পানির সংযোগ চালু ছিল। বিদ্যুৎ, কেবল টিভি ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর বিকেল পর্যন্ত বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন কিংবা ২০-দলীয় জোটের কোনো নেতা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যাননি। মহিলা দলের কয়েকজন নেতা বিকেলের দিকে খাবার, মোমবাতি ও পানি নিয়ে ভেতরে যান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজউদ্দীন আহমদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন ।
ফিরে এসে এমাজউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিদ্যুৎ, মোবাইলসহ অন্যান্য সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া নিকৃষ্টতম পদক্ষেপ। তিনি বলেন, তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন আচরণের উদাহরণ কোথাও দেখা যাবে না। যারা এসব করছে, তাদের ‘গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ’ নেওয়া উচিত। তাঁকে হত্যার কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, তিনি সে প্রশ্ন তোলেন ।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িটি । গত ৫ জানুয়ারি ‘একতরফা’ সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে রাজধানী ঢাকায় পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সাংঘর্ষিক অবস্থান নিলে ৩ জানুয়ারি রাতেই পুলিশ ইট-বালুর ট্রাক দিয়ে কার্যালয়ের সামনের রাস্তা আটকে খালেদা জিয়াকে ‘অবরুদ্ধ’ করে। পরে পুলিশ ও ইট-বালুর ট্রাক সরিয়ে নিয়ে ‘অবরোধমুক্ত’ করা হলেও তিনি আর কার্যালয় থেকে বের হননি। তিনি ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকছেন।
রাতের খাবার ও কিছু বোতলজাত পানি নেওয়া হয় রাত আটটার দিকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে । এর আগে বেলা ১১টার দিকে ৫০টির মতো ফিল্টার পানির জার এবং দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বড় দুটি ড্রামে করে জ্বালানি তেল খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের উত্তর ফটক দিয়ে ভেতরে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ আছে কার্যালয়ের সামনে । ওই কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়।
কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে এই কার্যালয়ে আছেন সদ্য প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ও তাঁর দুই মেয়ে। এ ছাড়া রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আলম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানসহ খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের সদস্য ও কার্যালয়ের কর্মচারীরা ।
মারুফ কামাল বলেন, গত রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর খালেদা জিয়া দুই নাতনিকে নিয়ে বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে কার্যালয়ের ফ্যাক্স মেশিন অকার্যকর। মোবাইল সেটগুলো চার্জ দিতে না পেরে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ভেতরের সঙ্গে বাইরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলাকালে অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করার দাবিতে গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে খালেদা জিয়াকে স্মারকলিপি দিয়েছেন ২৫-৩০ জন অভিভাবক। প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে কয়েকজন অভিভাবক অবস্থান নেন গুলশানের কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে । সাড়ে ১২টার দিকে কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন একজন অভিভাবক। এ ব্যাপারে তাঁরা আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবেন বলে জানান।
লায়লা আফরোজ নামের আরেক অভিভাবক বলেন, তাঁর মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে। তিনি কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে এখানে আসেননি। বিকেল চারটার দিকে আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাবা দাবি করে কার্যালয়ের ভেতর যেতে চান। তিনি ছেলের পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে নিয়ে অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে খালেদা জিয়ার প্রতি অনুরোধ জানান।

 

Share.

Comments are closed.