চলমান অবরোধ-হরতালে ট্যানারি মালিকদের ক্ষতি ৪৫৯ কোটি টাকা

0

আলোর পথ ২৪.কম

চলমান টানা অবরোধ-হরতালে দেশের ট্যানারি মালিকদের ক্ষতি হয়েছে ৪৫৯ কোটি টাকার ।
ট্যানারি মালিকদের চামড়া রপ্তানি কমে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, আমদানি করা রাসায়নিক বন্দরে আটকে থাকা, সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারা এবং বিমানে পণ্য পাঠানোর কারণে এই ক্ষতি হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে গতকাল সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছে ।
বিটিএর সভাপতি শাহীন আহমেদ এতে মূল বক্তব্য পড়ে শোনান । তিনি জানান, গত জানুয়ারিতে কাঁচা ও প্রস্তুত চামড়া রপ্তানি কমেছে ১২৮ কোটি টাকার। কোরবানির সময় সংগ্রহ করা চামড়ার ৪০ শতাংশ এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। ঠিকমতো ট্যানারিতে আনতে না পারায় সেগুলোর মান নষ্ট হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। আমদানি করা রাসায়নিক বন্দরে পড়ে থাকায় ক্ষতি প্রায় ২০ কোটি টাকা। ট্রাক ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার ক্ষতি ১৫ কোটি টাকা। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে ৩৪ কোটি টাকা। রপ্তানি পণ্য বিমানে পাঠানোর কারণে ক্ষতি ৪৫ কোটি টাকা। ব্যাংকঋণের সুদ দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-মজুরি বাবদ ব্যয় গুনতে হয়েছে ৫২ কোটি টাকা।
বিটিএ বলছে, বিশ্ববাজারে চামড়ার দাম পড়ে গেছে। আগে যেখানে প্রতি বর্গফুট প্রস্তুত চামড়ার রপ্তানি মূল্য ছিল ১ ডলার ৭০ সেন্ট, সেটা এখন নেমেছে ১ ডলার ৫০ সেন্টে। মজুত চামড়া রপ্তানিতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হবে। দেশের ট্যানারিগুলোতে এখন মজুত আছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার চামড়া।
প্রসঙ্গত, চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের চামড়া রপ্তানি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি)  ৭৭ কোটি ৩১ লাখ ডলার। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলারের চামড়া।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয় হরতাল-অবরোধের ক্ষতি পোষাতে প্রস্তুত চামড়া রপ্তানির ওপর ১০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া, চামড়াশিল্পনগরে ট্যানারি স্থানান্তরে এক অঙ্কের সুদহারে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া এবং শিল্পনগরে উৎপাদন ও রপ্তানি শুরুর পর থেকে ১০ বছর এসব প্রতিষ্ঠানকে কর অবকাশ-সুবিধা দেওয়ার ।
এ বছরের জুনে হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারের শিল্পনগরে স্থানান্তরের সময়সীমা শেষ হচ্ছে । কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) নির্মাণকাজ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ।
তবে শাহীন আহমেদ রাজনৈতিক অস্থিরতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্যানারি স্থানান্তর সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি বলেন, ‘আমরা সিমেন্ট, বালু ঠিক সময়ে সাভারে নিতে পারছি না। কাজ করব কীভাবে? আগামী জুনের মধ্যে তাই সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ বছরের শেষ নাগাদ স্থানান্তর শেষ হতে পারে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্পনগর প্রকল্পের পরিচালক সিরাজুল হায়দার বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাঁদের সাভারে যেতে হবে। না গেলে কী হবে, সেটা কয়েক দিন আগে শিল্পমন্ত্রী তাঁদের জানিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন, যাঁরা সময়মতো সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর করবেন না, তাঁদের প্লট বাতিল করা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাজারীবাগ থেকে সাভারের শিল্পনগরে সব ট্যানারি স্থানান্তরে সরকারের কাছে তাঁরা ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার দিচ্ছে ২৫০ কোটি টাকা। এটা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

Share.

Comments are closed.