Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin
Development work

বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা রাহেলা বেগম

0

আলোরপথ২৪.কম

একাত্তরের কথা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জে এসে পৌঁছায়। পাকিস্তানি সেনারা শহরে নির্বিচারে ঘরবাড়ি পোড়াতে থাকে এবং রাজাকাররা তাদের এ দেশীয় দোসর । এক হিন্দুবাড়িতে রাহেলা বেগম ও তাঁর স্বামী বেলগাতি গ্রামের আশ্রয় নেন। তাঁরা ছাড়াও আরো তিন নারী ওই বাড়িতে একটি ঘরে লুকিয়ে ছিলেন। ঘরে ঢুকে পড়ে হানাদাররা। তারা নারীদের ওপর চালায় অকথ্য নির্যাতন। স্বামীর সামনেই রাহেলার ওপর চলে এ নির্যাতন। তাঁর স্বামী এ ঘটনার পর রাহেলা বেগমকে তালাক দেন ।

অভিমানে বীরাঙ্গনা রাহেলা বেগম এত বছর পরও স্বামীর নামটিও বলতে চান না। শুধু জানান, পাঁচ বছর পর তাঁর আবার বিয়ে হয় । বছর সাতেক আগে দ্বিতীয় স্বামী মারা গেছেন । স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই সন্তানের মধ্যে ছেলেটি পড়ালেখা করেছেন । তবে তাঁর বীরাঙ্গনা মায়ের ছেলে হওয়ায় কোথাও চাকরি হয়নি । এই বীরাঙ্গনার মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়ও নাম ওঠেনি ।

ঢাকার শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ‘গণজাগরণ মঞ্চ’-এর আন্দোলন শুরু হলে রাহেলা বেগমকে আনা হয়েছিল সেখানে। এই বীরাঙ্গনা গণজাগরণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষের সামনে বক্তব্যও দিয়েছিলেন । বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলেও তাঁর সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছিল। তবে গণমাধ্যমে তাঁর ওপর একাত্তরের নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে বলার কারণে ঘটে যায় আরেক বিপর্যয়। তাঁর গায়ে সমাজপতিদের কাছে প্রায় বিস্মৃত ‘খারাপ মেয়ে’ আখ্যাটি আবার সেঁটে দেওয়া হয়।

শুধু তা-ই নয়, গণজাগরণ মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর রাহেলার মেয়ে চম্পাকে তাঁর স্বামী মিলন তিন সন্তানসহ তালাক দেন। চম্পা এখন বীরাঙ্গনা মায়ের অভাবের সংসারে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

Share.

Comments are closed.