Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin

হিরো হেমন্ত এতটা ভাবেনি

1

আলোরপথ২৪.কম

হেমন্ত ভিনসেন্ট বুঝতেই পারেনি দেশের মানুষ তাঁকে কতটা ভালোবেসে ফেলেছে। জাতীয় দলের মিডফিল্ডার ঠিকই বুঝে গেছেন ।
পরশু রাত থেকেই হেমন্ত বুঝতে শুরু করেছেন, আসলেই কী কাণ্ডটা করেছেন! দুর্দান্ত খেলেছেন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে । মামুনুল ও এমিলি তাঁর জয়সূচক গোলেই খাদের কিনারা থেকে ফিরতে পেরেছেন । যেতে হয়নি অবসরে। বাংলাদেশ এখন বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইনালে ওঠারও স্বপ্ন দেখছে ।
ফেসবুকে চলছে বন্ধুদের শুভেচ্ছাবন্যা। দিনাজপুরের  যুবক অনেক ফোনও পাচ্ছেন । গোলের পর হেমন্ত প্রথম ফোনটা মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। হেমন্তের মা প্রিসিলা বিশ্বাস  দিনাজপুরে বাড়িতে বসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেলা দেখছিলেন ।তিনি গোলটা হতেই মুঠোফোন তুলে নিয়েছিলেন । ছেলে যে তখন মাঠে খেলছে, তা যেন বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন মা! ম্যাচ শেষে ১৬টা মিসড কল দেখলেন খোলার পর। সোনারগাঁও হোটেলের লবিতে বসে মায়ের খুশির বর্ণনা করলেন এভাবে, ‘মা আনন্দে কাঁদছিলেন। আমার খেলা দেখে ভীষণ খুশি হয়েছেন।’
বাবা মাইকেল বিশ্বাসও গর্বিত। মাইকেল বিশ্বাস একসময় দিনাজপুরের স্থানীয় লিগে ফুটবল খেলতেন । নিজে বড় ফুটবলার হতে পারেননি, তাঁর সেই ইচ্ছা ছেলেকে দিয়ে পূরণ হলো । বর্তমানে স্থানীয় ক্লাবে কোচিং করান। বাবা ছোট থেকেই হেমন্তের ফুটবলপ্রেম বুঝতে পেরেছিলেন । হেমন্ত স্কুল ফাঁকি দিয়ে নিয়মিতই চলে আসতেন মাঠে। বাবা একদিন বললেন, ‘তুই কি ফুটবলার হবি?’ আর পেছনে তাকানো নয়। ২০০৭ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি।
কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ হেমন্তকে চিনেছেন । গত মার্চে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা এই মিডফিল্ডারকে গোয়ায় ভারতের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে অভিষেক করিয়ে দেন। হেমন্তের গায়ে ১০ নম্বর জার্সিটাও তুলে দিয়েছিলেন । সেই জার্সির মান রেখে খুশি হেমন্ত, ‘কোচ প্রথম দিনই বলেছিলেন, তোমার চেহারা দেখে দলে ডাকিনি। তোমার মধ্যে সম্ভাবনা আছে। এবার পারফরম্যান্স দেখাও।’
বাড়ির পাশের এক চাচারও হেমন্তের প্রতিভা চোখ কেড়েছিল । হেমন্ত দিনাজপুরে তখন কিশোর লিগে খেলতেন। ওই চাচা খেলা দেখে একদিন বলেছিলেন, ‘তুই ফুটবলটা কখনো ছাড়িস না। অনেক দূরে যেতে পারবি।’
বিস্ময়মাখা কণ্ঠে হেমন্ত বলছিলেন, ‘আমি ভাবতেই পারিনি ওই আঙ্কেল আমাকে ফোন করবেন। আমার গায়ে জাতীয় দলের জার্সি দেখে ভীষণ খুশি তিনি।’
জাতীয় দলে মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। আলো কেড়েছেন এরই মধ্যেই । হেমন্ত নিজেই অবাক, ‘হোটেলে সবাই অন্য চোখে তাকাচ্ছে। একটা কথাই মনে হচ্ছে, দিনাজপুরের অখ্যাত এক ছেলে এখন ফাইভ স্টার হোটেলে, ফুটবলই আমার জীবনটা বদলে দিয়েছে।’ যেতে চান বহুদূর, ‘মামুনুল ভাইয়ের মতো অধিনায়ক হতে চাই।’
ডি ক্রুইফ নেপালের বিমল খাড়কার সঙ্গে হল্যান্ডের ক্লাবে হেমন্তকে ট্রায়াল দিতে পাঠিয়েছিলেন । শেষ পর্যন্ত টেকেননি। তবে ইউরোপের ক্লাবের ড্রেসিংরুমের ১৫ দিনের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অমূল্যই, ‘ওখানে ৩টা ম্যাচ খেলেছিলাম। একজন ফুটবলারের যে ক্ষুধাটা দরকার, তা ওখান থেকেই পেয়েছি।’ হেমন্তের এই ক্ষুধাটা থাকা মানেই সবার মুখে হাসি ফুটে ওঠা ।

 

Share.

১ Comment