দেশের বাজারে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে

0

আলোরপথ২৪.কম

দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যের দামে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে টানা অবরোধ-হরতালসহ রাজনৈতিক অস্থিরতায়। যে কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমার যে ধারাবাহিকতা কয়েক মাস ধরে দেখা যাচ্ছিল, তাতে ছেদ পড়েছে সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারিতে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, মাসওয়ারি ভিত্তিতে সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ; যা আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভাশেষে গত পরশু মঙ্গলবার বিবিএসের এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, হরতাল ও অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দেশের অভ্যন্তরে খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্য পৌঁছাতে পারেনি। ফলে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।
জানুয়ারি মাসে টানা ২৬ দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট । তারা এ সময়ে বেশ কয়েক দফা জাতীয় ও স্থানীয়ভাবে হরতালও ডেকেছে । এ কারণে সংকটের মধ্যে পড়ে পণ্য পরিবহন ।
এ ছাড়া স্বাভাবিক ছিল না দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাল, ডাল, শাকসবজির মতো খাদ্যপণ্যের পরিবহন । স্বাভাবিক সময়ের মতো খাদ্যপণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছাতে না পারায় দাম বেড়েছে।
বিবিএস মূল্যস্ফীতির চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি আরেকটি হিসাবও দিয়েছে । এতে দেখানো হয়েছে, চাল-ডাল, মাছ-মাংস, ভোজ্যতেল, দুধ ও দুগ্ধজাতীয় পণ্যের দাম গত ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারিতে ১ দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়েছে।
জানুয়ারির আগেও খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমেছে টানা তিন মাস । যেমন গত অক্টোবরে যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ, সেখানে তা কমে নভেম্বরে ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ডিসেম্বর ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে আসে।
তবে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও সুখবর আছে। সেটি হলো আলোচ্য জানুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে নেমে এসেছে ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে । আগের মাস ডিসেম্বরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ১১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। এমনকি খাদ্যবহির্ভূত পণ্যেও মূল্যস্ফীতি কমে ৬ দশমিক ০১ শতাংশে নেমেছে। গত ডিসেম্বর মাসে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
পরিকল্পনামন্ত্রী দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, মূলধিন যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি কমেছে।
এদিকে সার্বিক হিসাবে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশিগ্রামের চেয়ে শহরের মানুষের ওপর । গত জানুয়ারি মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, আর গ্রামে এ হার ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।
ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ আয় না বাড়লে মানুষের ওপর চাপ বাড়ে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই মাসে পণ্যের দাম কী হারে বাড়ল বা কমল—সেই হিসাব বিবেচনায় নিয়েই মূল্যস্ফীতি গণনা করা হয়। উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে একজন ভোক্তা একটি পণ্য ১০০ টাকায় কিনেছিলেন। এ বছরের জানুয়ারি মাসে ওই ক্রেতা সেই পণ্যটি কিনেছেন ১০৬ টাকা ০৪ পয়সা দিয়ে। এর মানে হলো, এক বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৬ টাকা ০৪ পয়সা। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ।
জাতীয় মজুরি হার সূচক দিয়ে বোঝা যাই মানুষের আয় কতটা বাড়ল সেটা । বিবিএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে জাতীয় মজুরি হার সূচক দাঁড়ায় ৮৮৭৬; যা ২০১৪ সালের একই মাসের তুলনায় ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে। এতে দেখা যায়, দেশে যে হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে মানুষের মজুরি।

Share.

Comments are closed.