আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন ব্যবসায়ীরা

0

আলোরপথ২৪.কম

রংপুরের কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক মার্কেটের উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, প্রায় ৮০ বছর ধরে নগরীর প্রাণকেন্দ্র রংপুর প্রেসক্লাবসংলগ্ন কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের নিচতলায় ৭০ জন ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। যার বেশির ভাগই ছিল বইপুস্তক ও ছাপাখানার ব্যবসা। কিন্তু ভবন ভেঙে ফেলায় ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শুরুতেই তাঁদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁরা। এ ছাড়া পুরনো ব্যবসায়ীরা নতুন ভবনে বরাদ্দ না পাওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ।তাঁরা বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক দোকান মালিক ও  ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মানিক জানান, পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন করার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৫ আগস্ট নতুন ভবন নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক সিটি করপোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর সঙ্গে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জামানত বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এতে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে পুরনো ব্যবসায়ীরা মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডে প্রায় ৭০ লাখ টাকা জমাও দেন। কিন্তু এ ব্যাপারে চুক্তি সম্পাদনের জন্য ভবন নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ককে অনুরোধ করলে তিনি অসম্মতি জানান। তিনি আরো বলেন, পরবর্তী সময় ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। যার নম্বর ৫৭/২০১৫। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ৭ জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য স্থাপনা না ভাঙার জন্য স্থগিতাদেশ দেন। কিন্তু তার পরও ভবন উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

প্রেস ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, সারা বছরের আয়ের সিংহভাগই হয় বছরের শুরুতে। বইপুস্তক ছাপানোসহ নানা ধরনের কাজ হয় এই সময়ে। কিন্তু হঠাৎ করে ভবন ভাঙার কারণে তাঁদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

পুস্তক ব্যবসায়ী আবদুল কুদ্দুস বলেন, বছরের শুরুতেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে বইপুস্তক সরবরাহ করাই আমাদের মূল ব্যবসা। জায়গা না পেয়ে এবার ব্যবসা গুটিয়ে রাখতে হয়েছে। তিনি এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার মতো নয় বলে জানান ।

ওই মার্কেটের দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ সামছুল ইসলাম বলেন, ক্ষতি তো হয়েছে, এখন আমাদের দাবি নতুন ভবন হলেও পুরনো ব্যবসায়ীরা যেন দোকান বরাদ্দ পান। তিনি আরো বলেন, এই মার্কেটে বেশ কয়েকজন অসচ্ছল ব্যবসায়ী আছেন, যাঁদের সাধ্যের বাইরে জামানত দেওয়ারও উপায় নেই। তিনি বিষয়টি বিবেচনারও দাবি জানান ।

আকুতি জানিয়ে পুরনো ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘ভবন উচ্ছেদ অব্যাহত থাকায় ব্যবসা গুটিয়ে এমনিতে পথে বসতে হয়েছে। নতুন ভবনে বরাদ্দ না পেলে না খেয়ে মরতে হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের রংপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল আলম দাবি করেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ পাওয়ার আগেই মার্কেট উচ্ছেদ করা হয়ে গেছে।

ভবন নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু জানান, এত দিন ব্যবসায়ীরা নামমাত্র টাকা দিয়ে ব্যবসা করে আসছিলেন। সুযোগ আসায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শর্ত সাপেক্ষে অবশ্যই পুরনো ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

Share.

Comments are closed.