Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin
Development work

এ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা,দেশ বাঁচাও, অর্থনীতি বাঁচাও

0

আলোরপথ২৪.কম

জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে এসেছে সারা দেশের ব্যবসায়ীরা হরতাল-অবরোধ ও সহিংসতা বন্ধের দাবিতে । ‘দেশ বাঁচাও, অর্থনীতি বাঁচাও’-স্লোগানে দেশব্যাপী ব্যবসায়ীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ জানায় শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের আহ্বানে গতকাল রবিবার । তারা দাবি করে, যে কর্মসূচি দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়, জনজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে, তা কখনই রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে না। তাই তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানায় । গত ১ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী ছাড়াও নানা পেশা ও শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানায় দেয়।

গতকাল রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রূপগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নীলফামারী, টাঙ্গাইল, পিরোজপুর, জয়পুরহাট, খাগড়াছড়ি, রূপগঞ্জ, বগুড়া, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, জামালপুর, যশোর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, জেলা চেম্বার ও নানা খাতের ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ ব্যবসা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, চেম্বার বা অ্যাসোসিয়েশনের সামনে জাতীয় পতাকা হাতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ।

কয়েক হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক সাভারের আশুলিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদ ও গার্মেন্টশিল্প রক্ষায় সাদা পতাকা হাতে মানববন্ধন করেছে। এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অবরোধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গার্মেন্ট খাত। হরতালে এ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বায়াররা কার্যাদেশ বাতিল করা শুরু করেছে, পণ্য শিপমেন্টের শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে, সঠিক সময়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে রপ্তানি অর্ডার বাতিল হচ্ছে, অন্যদিকে দেরিতে খালাস হওয়ায় আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। তাঁরা এ পরিস্থিতির উত্তরণে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান দেশের দুই নেত্রীকে ।

সাতটি জাতীয় ও ৩৩টি জেলাভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতারা হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির বিকল্প খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন । বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি এবং এনসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মঞ্জুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চারকারী ব্যবসা-বাণিজ্যে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারলে দেশের অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তাই সমঝোতার পথে আসাই হবে একমাত্র উপায়।

আ. আজিজ শেখ কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের। এভাবে জ্বালাও-পোড়াও করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে রাজনীতি হতে পারে না। যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি স্থানেও ব্যবসায়ীদের ২৫টি সংগঠন মানববন্ধনে অংশ নেয়। নেতারা দাবি করেন, প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা চলমান হরতাল-অবরোধে যশোর অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের । এ পরিস্থিতিতে আর কোনো উপায় নেই যশোরের ব্যবসায়ীদের রাজপথে নামা ছাড়া ।

স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ছাড়াও খাতভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো অংশ নেয় এফবিসিসিআইয়ের ডাকা এ মানববন্ধনে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, শাহ্ আমানত সিটি করপোরশন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতি, বাংলাদেশ ইনডেনটিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিআইএএ) অন্য সংগঠনগুলোও ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করে। খুলনায় পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতির মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হরতালে পোল্ট্রিবাহী যান মাছ-মুরগির খাদ্য, বাচ্চা, রেণু, ওষুধ, দুধ, ডিম, মাংস অবাধ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বক্তারা আরো বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলকে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনায় বসে সহাবস্থানে থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করা উচিত।

প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিআইএএ রাজধানীর মতিঝিলে। বিআইএএর প্রেসিডেন্ট ম শ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সদস্যরা বলেন, রাজনীতিতে অস্থিরতা থাকলে কোনোভাবেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শত্তিশালী হয় না। শুধু অর্থনীতিই নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সব ক্ষেত্রেই চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, যা বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে দেশের রপ্তানি, বিনিয়োগ-সব ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। তাঁরা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, তীব্র প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে ৬.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে ৭.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন। কিন্তু লাগাতার অবরোধ ও হরতালের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হবে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার আশা নিয়ে যখন দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন সব অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করেছে উপর্যুপরি হরতাল-অবরোধ ।

 

 

Share.

Comments are closed.