নাগরিক সমাজের একটি প্রস্তাব, ‘শুভ উদ্যোগ’ নিন

0

আলোরপথ২৪.কমঃ

নাগরিক সমাজ সংলাপের ‘শুভ উদ্যোগ’ নিতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসনকে অনুরোধ জানিয়েছে । নাগরিক সমাজের একটি প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে তাঁদের কাছে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির জন্য ।
রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে নাগরিক সমাজ রাষ্ট্রপতির কাছে লেখা চিঠিতে সংলাপের শুভ উদ্যোগ গ্রহণে বিশেষ ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
তিনটি পৃথক চিঠি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় নাগরিক সমাজের পক্ষে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বরাবর পাঠানো হয়। তিনটি চিঠিই সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই উদ্যোগের ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছে । প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম গত রাতে বিবিসিকে বলেছেন, এখনকার উদ্যোগে শামসুল হুদা ছাড়া অন্য সবার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁরা এ মুহূর্তে এ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিতে চান না। তাঁদের নিশ্চয়ই এজেন্ডা আছে। তিনি বলেন, ‘আততায়ীর সাথে আপনি নিশ্চয়ই আলোচনায় বসতে পারেন না।…আগে নির্মমতা বন্ধ করুক, তখন একটা পরিবেশ সৃষ্টি হবে।’
গতকাল সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেনের ব্যক্তিগত সহকারী চঞ্চল মাহমুদ বিএনপির কাছে চিঠি পৌঁছে দেন । চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান চিঠিটা  গ্রহণ করেন ।
বিএনপি এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে নেবে এবং স্বাগত জানাবে বলে মনে করছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান। গতকাল রাতে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইতিমধ্যেই বলেছেন, তিনি সংলাপ চান। এখন নিশ্চয়ই এটা সম্ভব হবে এবং হতেই হবে।
৭ ফেব্রুয়ারি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিরাজমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের বক্তব্যের আলোকে ও ‘জাতীয় সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক প্রস্তাব গৃহীত হয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে । মূলত ওই প্রস্তাবের আলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্যোগ নেওয়ার ।
প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সমাজের প্রস্তাবে সংলাপের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। আর ভূমিকা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে সংলাপের বিষয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখতে রাষ্ট্রপতিকে । এতে বলা হয়েছে, চলমান সহিংসতা অর্থনীতি ও জনজীবনকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এর মূল কারণ হলো সরকার ও তাদের প্রতিপক্ষের মধ্যকার রাজনৈতিক বিরোধ। স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধ ও সংকট নিরসনের শান্তিপূর্ণ রীতি হচ্ছে সংলাপ। এর কোনো বিকল্প নেই। আর এই সংলাপ হতে হবে সব সক্রিয় রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কার্যকর অংশগ্রহণের ভিত্তিতে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরাজমান সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। যাতে নারী-শিশু, মাতা-পিতা, নির্দোষ মানুষ জ্বালাও-পোড়াওয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে। যাতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পরিবেশ পায় এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। বাণিজ্যের জন্য পরিবহনব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়। কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যাঁরা সংবিধানের মূলনীতির প্রতি বিশ্বাসী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাঁরা সবাই সংকটের স্থায়ী সমাধানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনসহ অন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে শক্তিশালী করা হলে তারা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে, তা বিবেচনার দাবি রাখে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিশন গঠন করার কথাও ।

 

 

Share.

Comments are closed.