এইচএসবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ডেকেছে : অর্থপাচার

0

আলোরপথ২৪.কমঃ 

বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার নিয়ে কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাইয়ে এইচএসবিসি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ডেকেছে ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন গত বুধবার মৌখিকভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখা করতে ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপ-প্রধান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, “সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, অনেকে কর ফাঁকি দিতে এইচএসবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচার করেছে। ঘটনাটা কী তা জানতে ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের আসতে অনুরোধ করেছি।”

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের দৈনিক গার্ডিয়ান, ফরাসি পত্রিকা ল্য মঁদ, বিবিসি ও ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টের (আইসিআইজে) সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন প্রতিবেদন প্রকাশ করে এইচএসবিসির চুরি হওয়া তথ্য নিয়ে ।

তাতে বলা হয়, বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন-এইচএসবিসির মাধ্যমে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এক কোটি ৩০ লাখ ডলার পাচার হয়েছে। ১৭টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ১৬ জন গ্রাহক এ অর্থ পাচার করে।

 

ওই ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত হিসাব রয়েছে ১০টি এবং অফশোর কোম্পানির হিসাব সাতটি। ব্যক্তিগত ১০টি ব্যাংক হিসাব পরিচালনাকারীর মধ্যে পাঁচ জন বাংলাদেশের নাগরিক বা পাসপোর্টধারী।

তবে এখনও অর্থ পাচারকারীদের পরিচয় জানা যায়নি। এর মধ্যে একজন পাচার করেছেন সর্বোচ্চ ৪৪ লাখ ডলার ।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডে এইচএসবিসি প্রাইভেট ব্যাংকে ১৯৮৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশিদের ৩৪টি একাউন্ট খোলা হয়। এর মধ্যে বর্তমানে ৩১টি সক্রিয় আছে। ২০০০ সালের পর একাউন্ট খোলার প্রবণতা বাড়ে।

এইচএসবিসি প্রাইভেট ব্যাংক নামে সুইজারল্যান্ডে এইচএসবিসির কার্যক্রম পরিচালিত হয় । সেখানকার তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হার্ভে ফালসিয়ানি এক লাখেরও বেশি গ্রাহকের তথ্য চুরি করে ফ্রান্সে পালিয়ে যান ২০০৭ সালের শেষদিকে ।

বিদেশি গণমাধ্যমগুলো এইচএসবিসির মাধ্যমে অর্থপাচার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ।

 

 

 

Share.

Comments are closed.