আজ ভালোবাসা দিবস, পৃথিবীর সবাই ভালোবাসতে চায়,ভালোবাসা চায়

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সারা বিশ্বে বেশ ধুমধামের সঙ্গেই পালন করা হয় ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইনস ডে। ভালোবাসা! পৃথিবীর সবাই ভালোবাসতে চায়,ভালোবাসা চায়। তাই স্নেহ-প্রীতি-বন্ধন, প্রেম আর ভালোবাসার জন্য কি বিশেষ কোনো দিনের দরকার! অথচ তারপরও, পৃথিবীর বহু প্রেমিক-প্রেমিকা পালন করে আসছে এ দিনটি। একে অন্যকে বলছে, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে’। অবশ্য দিনটি আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার হলেও, প্রধানত তারুণ্যের জয়জয়কারই সর্বত্র। আর সেজন্যই আজ হয়ত লজ্জা, সংকোচ আর ভীরুতা কাটিয়ে হৃদয়ের গহিনে অনেক দিনের সঞ্চিত বাক্য আমি তোমাকে ভালোবাসি’ বলে ফেলতে পারেন কেউ কেউ। ভাসতে পারেন ভালোবাসার রঙে।

ভালোবাসা দিবস উদযাপনের ইতিহাস বেশ পুরনো। এ নিয়ে একাধিক গল্প থাকলেও, সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটি হচ্ছে এরকম: সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজক ছিলেন। তিনি ধর্মযাজক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসকও। সে সময় রোমানদের সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। হয়েছে কি, বিশ্বজয়ী রোমানরা একের পর এক রাষ্ট্র জয় করে চলেছে। আর যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী সেনাবাহিনী। কিন্তু, সমস্যা দাঁড়ায় তরুণীদের নিয়ে। তাঁরা যে কিছুতেই তাঁদের পছন্দের পুরুষটিকে যুদ্ধে পাঠাতে চায় না। তখন সম্রাট ক্লডিয়াস মনে করলেন, পুরুষরা বিয়ে না করলেই বোধ হয় যুদ্ধে যেতে রাজি হবে।

যেমন ভাবা,তেমন কাজ। বিয়ে নিষিদ্ধ করলেন সম্রাট। কিন্তু প্রেমপিয়াসী তারুণ্যকে কি নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ করা যায়! এগিয়ে এলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। নিজেই প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের বিয়ের ব্যবস্থা করলেন। সে ব্যবস্থা অবশ্য বেশি দিন চললো না। ধরা পড়লেন ভ্যালেন্টাইন। তাঁকে জেলে পোরা হলো। কিন্তু, তখন দেখা দিল নতুন একটা সমস্যা। অনেকেই ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে কারাগারে যেতেন। দিয়ে আসতেন ফুলের শুভেচ্ছা। তাঁদের মধ্যে একটি অন্ধ মেয়েও ছিলন। শোনা যায়, সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নাকি তাঁর অন্ধত্ব দূর করেন। শুধু তাই নয়, মেয়েটির প্রেমে ধর্মযাজকের আইন ভেঙে তাঁকে বিয়েও করেন । তারপর আর কী? এহেন একটা খবর সম্রাটের কানে পৌঁছতেই তিনি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড দেন। ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে, প্রিয়াকে লেখা ভ্যালেন্টাইনের শেষ চিঠিতে ছিল, লাভ ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন’।

সেই দিনটিও ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দে পোপ গেলাসিয়াস প্রথম এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৭০০ শতাব্দীতে দিনটিকে জনপ্রিয়ভাবে পালন শুরু করে ব্রিটেন। শুরু হয় হাতে লেখা কার্ড অথবা উপহার বিনিময়। এরপর ১৮৪০ সালে বাণিজ্যিকভাবে প্রথম ভালোবাসা দিবস-এর উপহার তৈরি শুরু করেন এস্থার এ হাওল্যান্ড। সেই থেকেই শুরু…।
সূত্র: অনলাইন

Share.

Comments are closed.