কেজরিওয়াল:পাঁচ বছরে ঘুষমুক্ত করব দিল্লিকে

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ 

দিল্লিকে পাঁচ বছরের মধ্যে ভারতের প্রথম ঘুষমুক্ত শহর করে তোলা হবে। দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী গতকাল শনিবারের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিয়ে বারবেলায় রামলীলা ময়দানে উপস্থিত জনসমুদ্রকে এই প্রতিশ্রুতি দিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।তিনি ভিআইপি সংস্কৃতি বন্ধ করতে চান বলেও জানিয়েছেন ।
শপথবাক্য পাঠ করান দিল্লির উপরাজ্যপাল নাজিব জং কেজরিওয়াল ছাড়াও আরও ছয় পূর্ণ মন্ত্রীকে। তাঁরা হলেন মনীশ সিসোদিয়া, আসিম আহমেদ খান, গোপাল রাই, জিতেন্দ্র সিং টোমার, সত্যেন্দ্র জৈন ও সন্দীপ কুমার। শপথ নেওয়ার পর ভাষণ শেষ করে জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে কেজরিওয়াল সদলে যান রাজঘাটে । সেখান থেকেই সোজা সচিবালয়। শপথ নেওয়ার দিনসহ ২৪ ঘণ্টাই তিনি ও তাঁর মন্ত্রীরা কাজ করবেন, ঘোষণা দিয়েছেন এএপির প্রধান।
কেজরিওয়াল ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত দিল্লি গড়তে দুর্নীতিবাজদের কীভাবে পাকড়াও করতে হবে, জনতাকে তাও বুঝিয়ে দিলেন । বললেন, সরকারি কর্মীরা ঘুষ চাইলে রাজি হয়ে যান। তারপর পকেটে রাখা মোবাইল ফোনটা অন করে কথাবার্তা রেকর্ড করুন এবং সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিন। সরকার ঠিক ব্যবস্থা নেবে।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি নিজের হাতে কোনো মন্ত্রণালয় রাখেননি, যাতে শুধু সরকারি কাজে আবদ্ধ না থেকে দলকে আরও বেশি সময় দিতে পারেন। অর্থ, রাজস্ব, শিক্ষা, যোজনার ভার দেওয়া হয়েছে উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়ার হাতে।
তিনি দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন করে রাজনীতির শীর্ষে উঠে আসা কেজরিওয়াল ও তাঁর আম আদমি পার্টির (এএপি) কাছে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন অবশ্যই একটা স্বপ্ন। তাঁর প্রাথমিক কাজ সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে জমায়েতকে উদ্দেশ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘প্রথমবার আমাদের মধ্যে এ নিয়ে একটা “রোমান্টিসিজম” ছিল। কিন্তু এবার আমরা আরও আস্থাবান। দুর্নীতিমুক্ত দিল্লি গড়া সম্ভব বলেই আমরা মনে করি।’
বিপুল জয়টা যে তাঁদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে না পারলে লোকে ক্ষমা করবে না, কেজরিওয়াল তা প্রথমেই উপলব্ধি করেছিলেন। সেই কারণেই তিনি তাগিদ দিয়েছিলেন ফল প্রকাশের দিনই অনুশাসন মানা ও অহংকার না করার । গতকাল সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিয়ে দলীয় পদস্থ কর্মকর্তা, সমর্থক ও কর্মীদের উদ্দেশে কেজরিওয়াল বলেন, ‘কংগ্রেস অহংকারী হয়েছিল বলেই মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। লোকসভায় বিপুল জয়ের পর দিল্লিতে বিজেপিও অহংকারী হয়ে পড়ে। তার ফল তারা পেয়েছে। আমরা যেন অহংকারী না হই।’
আগেরবারের কথা উল্লেখ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘২৮টি আসন পেয়ে ভেবেছিলাম সারা দেশই জিতে নেব। সে জন্য চার শর বেশি লোকসভা আসনে লড়াই করি। এবং হারি। অহংকারের শাস্তি ঈশ্বর দিয়েছেন। এবার পাঁচ বছর দিল্লিতেই থেকে সাধারণ মানুষের সেবা করব।’
এএপি আঁকড়ে ধরেছে সংঘাতের রাজনীতি থেকে সরে সহযোগিতার রাজনীতিকে । প্রসঙ্গটা তুলে কেজরিওয়াল বলেন, ‘কিরণ বেদীকে আমি শ্রদ্ধা করি। পুলিশ ও প্রশাসনে তাঁর অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। অজয় মাকেনেরও বিস্তর অভিজ্ঞতা। এঁদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রশাসন চালাব।’ কেজরিওয়াল প্রথাগত রাজনৈতিক সংকীর্ণতা থেকে বেরিয়ে নতুন ধরনের রাজনীতির পথে চলারই ইঙ্গিত দিলেন ।

 

 

Share.

Comments are closed.