খালেদার কার্যালয় ঘেরাও

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শুলশানের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে। নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক ।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমন্বয় পরিষদের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করতে যান। পুলিশ গুলশান ২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের মাথায় ৯০ নম্বর সড়কে তাঁদের আটকে দেয়। সেখানে তাঁরা স্লোগান দেন নানা ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে হরতাল-অবরোধ বিরোধী ।
খালেদা জিয়ার কার্যালয় অবস্থিত ৮৬ নম্বর সড়কে । তিনি কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করছেন।
সমন্বয় পরিষদ বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতাল-অবরোধের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য, পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করছে। গতকাল রোববার নৌমন্ত্রী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কর্মসূচি পালনের উদ্দেশে আজ সকাল থেকে গুলশান সেন্ট্রাল পার্কে জমায়েত হতে থাকেন সমন্বয় পরিষদের নেতা-কর্মীরা। বাসে করে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকে তাঁরা সেখানে আসতে থাকেন। এ কর্মসূচির কারণে গুলশান ও বনানী এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়।

সেন্ট্রাল পার্কে উপস্থিত হন শাজাহান খান, ১৪ দলের নেত্রী শিরিন আক্তার। একপর্যায়ে সেখানে বক্তব্য দেন শাজাহান খান। তিনি গুলশান থেকে খালেদা জিয়ার কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে শাজাহান খান বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা না হলে জনগণই তাঁকে গ্রেপ্তার করে কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাবে।’
এ কর্মসূচি সম্পর্কে নৌমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা জানান দিচ্ছি। পুলিশ ভাইয়েরা আমাদের যত দূর পর্যন্ত যেতে দেবে, তত দূর পর্যন্ত যাব। কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে। আমাদের কর্মসূচি চলবে। আমরা যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে যাব। তবে আমাদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।’

শাজাহান খান পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন তাঁর বক্তব্যে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ট্রাক মিছিল এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করবে সমন্বয় পরিষদ।
সমন্বয় পরিষদের নেতা-কর্মীরা দুপুর ১২টার দিকে গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক থেকে মিছিল নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয় অভিমুখে রওনা হন ।
মিছিলটি খালেদা জিয়ার কার্যালয় অভিমুখে যাওয়ার সময় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে গুলশান ২ নম্বর মোড়ের পাশে মেট্রোপলিটন শপিং প্লাজার সামনে। মিছিলে থাকা এক যুবকের পায়ের ওপর এসে ককটেলটি পড়ে। উপস্থিত নেতা-কর্মীরা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মেট্রোপলিটন শপিং প্লাজায় ভাঙচুর চালান।
এর আগে আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে আওয়ামী মহিলা লীগের অন্তত ৫০ জন নেতা-কর্মী গুলশানে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করতে যান।পুলিশ গুলশান ২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের প্রবেশমুখে তাঁদের থামিয়ে দেয়।
আওয়ামী মহিলা লীগের নেতা-কর্মীরা ৮৬ নম্বর সড়কের প্রবেশমুখে অবস্থান নেন পুলিশের বাধা পেয়ে। তাঁরা সেখানে মিছিল-স্লোগান দিচ্ছেন। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকা মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের (উত্তর) সভাপতি তসলিমা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শাহিদা তারেক দীপ্তি।
পুলিশের গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নুরুল আলম বলেন, নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবীর বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করবে। এর আগেও এ ধরনের আরও কর্মসূচি পালিত হয়েছে, সেখানে পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

 

Share.

Comments are closed.