পনের দিনেও বিএনপির নেতা মনির খুনের মূল আসামীরা অধরা, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

সুজন মৃধা, কলাপাড়া প্রতিনিধি

পনের দিনেও কলাপাড়ায় চাকামইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম
তালুকদারের (৫০) খুনের ঘটনায় প্রকৃত খুনিরা গ্রেফতার হয়নি। উল্টো এ ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকার কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে যাচ্ছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার বিকেলে চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ খুনের ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৪ দিন পর নিহতের ছোট ভাই কলাপাড়া থানায় ১৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের  করেন। পুলিশ জানায়, হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং একজন আটক আছে। নিহতের স্ত্রী নাদিরা সুলতানা জানান,
স্থানীয় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাই তালুকদার গং তার স্বামীকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নির্মমভাবে খুন
করেছে। তাদের দাবি তারা এ নৃশংস হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার পাবেন না। কারণ ইতোমধ্যেই আসামিরা এ খুনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা শুরু করেছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তিনি হত্যাকান্ডের বিচার দাবী করেছেন। মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম জানান,খুনের ঘটনা দিন-দুপুরে হলেও আসামিদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। এ অবস্থায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা রয়েছে শঙ্কাগ্রস্ত। এদিকে এ
হত্যা মামলাকে পুঁজি করে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে মামলার আসামিদের আত্মীয় সজনসহ স্থানীয় নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক ফায়দা লোটার কাজে নেমেছে। এ
সন্ত্রাসী গ্রুপটি অজ্ঞাত আসামির অজুহাতে সাধারণ মানুষকে নিজেরাই আটক করে পুলিশে সোপর্দের ভয় দেখিয়ে কামাই-বাণিজ্য চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে অনেকে।
এ সব ঘটনার ধারাবাহিকতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসীর পক্ষে মো. হাবিবুর রহমান পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন । তিনি দাবি করেন যে, এই হত্যা কান্ডের পর এলাকার
কতিপয় স্বার্থান্বেষি মহল তাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে শোকাহত পরিবারের শোককে পুঁজি করে প্রকৃত আসামী আড়ালে রেখে গোটা এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনশ্রুতি আছে, দিনে দুপুরে এই নির্মম খুন করে সন্ত্রাসিরা নির্বিঘে এলাকার ও পার্শ্ববর্তী শান্তিপ্রিয় মানুষের ধারনা বিশেষ কোন সংগঠিত সন্ত্রাসীদল এমন নির্মম হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চাকামইয়ার বাসীন্দা হাবিববুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘হত্যাকান্ডের শিকার মরহুম মনিরুল ইসলাম তালুকদার আমাদের মামাতো ভাই। কিন্তু এলাকায়
নোংরা রাজনীতির হয়রানী, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে আমার ছোট দুই ভাইকে এই মামলায়
আসামী করা হয়েছে। মামলার পর থেকে এলাকার কিছু যুবক আমাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছে। কোন আত্মীয় স্বজন এলাকায় যেতে পারছে না।
আমাদের বাড়িতে আমার ভাইদের সন্তান পরিজন নিয়ে সবাই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ছাড়া আমাদরে বাড়িতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় কয়েক কোটি টাকার ঋন নিয়ে একটি মাছের প্রকল্প আছে। সন্ত্রাসিদের হুমকির কারনে বর্তমানে ওই প্রকল্পের মাছ চাষও ব্যহত হচ্ছে। মাছ চুরির জন্য পায়তারা চলছে।
হাবিব জানান, তাকে লাঞ্চিত করা হয়েছে। কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাঃ আজিজজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পুলিশ এজাহার ভুক্ত ১৬ নম্বর আসামী সোহাগ সিকদারকে আটক করেছে। খুনিদের
গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যহত
আছে। কাউকে অযথা হয়রানি করলে তার
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও তিনি জানান।

Share.

Comments are closed.