Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin

আদালতে হাজির নাহলে গ্রেফতার করা হতে পারে খালেদা জিয়াকে

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

আগামী বুধবার বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় আদালতে হাজির না হলে আদালতের হুকুম তামিল করবে পুলিশ।তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এমনটা জানিয়েছেন । ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘খালেদা জিয়া যদি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন, তাহলে সে ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন হতে পারে। তবে আদালতে হাজির না হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে হাজির করতে বাধ্য।’ পুলিশের ওই সূত্রটি আরো জানায়, ‘খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বের হওয়ামাত্রই পুলিশ তা দখলে নেবে এবং সেটি সিলগালা করে দেবে বলে যে প্রচারণা রয়েছে, সে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে ওই কার্যালয়ে আর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ তবে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন এদিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরা শেষে যদি জামিন পান তাহলে তিনি তার বাসায় ফিরে যেতে পারবেন । পুলিশের ওই কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ না করে আরো বলেন, ‘চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ করতেই খালেদা জিয়াকে আইনের আওতায় আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে খালেদা জিয়াকে একাধিক মামলায় হুকুমের আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি গ্রেফতার হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে কি না, তা নিয়েও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’ তিনি কারণ হিসেবে বলেন, ‘এমনিতেই দুই মাস ধরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বেশিরভাগ পুলিশ সদস্যই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এভাবে আর কত দিন একনাগাড়ে দায়িত্ব পালন করা যায়। একইভাবে র‌্যাব সদস্যরাও একটানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লান্ত।’র‌্যাবের মহাপরিচালক নিজেই এক টিভি সাক্ষাৎকারে তা স্বীকার করেছেন।ডিএমপির ওই কর্মকর্তা এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে গেলে খালেদাকে গ্রেফতারের কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করেছেন । সরকারের এমপি-মন্ত্রীরাও খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি কয়েক দিন ধরেই জোরেশোরে বলে আসছেন। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা মিছিল-মিটিং কিংবা সংসদে সবখানে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের জন্য চাপ দিচ্ছেন । এদিকে খালেদা জিয়া হাজির না হওয়ায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন দুর্নীতির দুই মামলায়।খবর প্রচারিত হয় ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা ডিএমপির তিন থানায় পাঠানো হয় বলে । এর পরের দিনই সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বলেন, খালেদা জিয়ার গ্রেফতারি পরোয়ানা কোনো থানায় পৌঁছায়নি। গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়া মাত্রই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে পুলিশের অন্য একটি সূত্র বলছে, আদালতের দেওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা ওই দিনই গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট ও রমনা থানায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তা গ্রহণও করেছে। তবে অফিশিয়ালি রিসিভ দেখানো হয়নি। কারণ, খালেদা জিয়া যদি স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হন, তাহলে পরোয়ানা তামিলের প্রয়োজন হবে না। এজন্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসন চাইছে, খালেদা জিয়া ওই কার্যালয় থেকে বের হোক। ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষায়, ‘সব মহল থেকে অপেক্ষা করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া যদি সোজা পথে না আসেন, তোহলে তাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আদালতের হুকুম তামিল করা হবে।’ দুর্নীতির দুই মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পাঁচ দিন পার হলেও কেন তা থানায় পাঠানো হয়নি, তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে জনগণের মনে। এ বিষয়ে আদালতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ-সংক্রান্ত কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় যায়নি। তবে কেন যায়নি, জানতে চাইলে আদালতের কর্মকর্তারা এড়িয়ে যান। এ নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আদালত যে আদেশ দিয়েছেন তাতে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারে কোনো বাধা নেই। পুলিশ প্রশাসন হয় তাকে গ্রেফতার করবে, নাহলে খালেদা জিয়া নিজেই আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইতে পারবেন।’অপরদিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা অবৈধ। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করাও আইন ভঙ্গের শামিল। সরকারের ইশারায় আদালত প্রভাবিত হয়ে এ ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।’ মাহবুব হোসেন আরো বলেন, ‘আদালত যদি সন্তুষ্ট হন তবে তিনি (খালেদা জিয়া) জামিন পেতে পারেন। এজন্য তাকে অবশ্যই আদালতে হাজির হতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। আর বিচারক এই মামলার কার্যক্রম বন্ধ রাখতেও পারবেন না। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক মামলা চালিয়ে যেতে হবে।’ অন্যদিকে, গত রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গুলশান থানার একটি বিস্ফোরক মামলায়তল্লাশির নির্দেশনা দিয়েছেন খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। আদালত এ নির্দেশনা জারি করেন গুলশান থানার এক কর্মকর্তা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলায় তল্লাশির অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে । এ আদেশ জারি হওয়ার পরপরই সরিয়ে নেওয়া হয় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ।রোববার রাতেই খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে বলে গুঞ্জন শুরু হয়। তবে খালেদা জিয়ার গ্রেফতার বিষয়ে গুলশান থানার এক কর্মকর্তা জানান, তল্লাশির সময় খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা না হলেও কার্যালয়ের ভেতরে আর কেউ থাকতে পারবেন না। তা ছাড়া, কার্যালয়ের ভেতরে থাকা কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামালও জব্দের আওতায় আনা হতে পারে।

 

Share.

Comments are closed.