Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin

বাঙালি জাতি কখনো ভুলবে না, ভুলতে পারে না

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

আজ সেই ৭ মার্চ। স্বাধীনতার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন এদিনেই।

বাঙালি জাতির জন্য এ মাসটিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিলো ১৯৭১ সালের এই মার্চ মাসেই ২৫ তারিখ গভীর রাতে, অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে । শুধু তাই না,পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী ২৫ মার্চ গভীর রাতে, এদেশের নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালায় । সে ঘটনা বাঙালি জাতি কখনো ভুলবে না, ভুলতে পারে না।

স্বাধীনতার এতো বছর পরও এখনো বাঙালি জাতির কাছে সমান জনপ্রিয় রয়ে গেছে ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ । এর কারণ, স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিক নির্দেশনা ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সেই ভাষণে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সেই ভাষণের মধ্যেই নিহিত ছিল ।বঙ্গবন্ধু তার এ ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিকামী বাংলার মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিলেন সেদিন।মুক্তির আকাঙ্খা জাগিয়ে তুলেছিলেন এদেশের অতি সাধারণ মানুষগুলোর মাঝেও। একই সঙ্গে তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর ভিতকেও নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

বাঙালিরা সেদিনের পর থকে এক হতে শুরু করে।এ জাতি নিজেদেরকে সংগঠিত করতে সমর্থ হয়। সেটি প্রমাণিত হয়েছে যুদ্ধের সময়। বঙ্গবন্ধু তার সেই ভাষণের এক পর্যায়ে প্রতিরোধের ডাক দেন শাসক গোষ্ঠীদেরকে ।তিনি পাকিস্তানীদের প্রতিরোধের জন্য বাঙালিদের প্রতি আহ্বান জানান। পাকিস্তানীদের উদ্দ্যেশে হুশিয়ারি জানিয়ে তিনি উচ্চারণ করেন, ‘সাত কোটি মানুষেরে দাবায়ে রাখতে পারবা না।আমরা যখন মরতে শিখেছি,তখন কেউ আমাদের দমাতে পারবে না।’

তিনি সবশেষে, উচ্চারণ করলেন সেই অমর বাণী-‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দিব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।’

পুরো জাতি উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ শোনার পর । লাখো কণ্ঠে বেজে ওঠে প্রতিরোধের হুংকার। সেদিনই শাসকগোষ্ঠী বুঝে যায়, এদেশের মানুষকে আর দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। আর তার পরই তারা শুরু করে দেয় গণহত্যা।

বঙ্গবন্ধুর পুরো ভাষণে যে ভাষা ও আবেগ উচ্চারিত হয়েছে তা এক কথায় অতুলনীয়। স্বাধীনতার প্রয়োজন হয় মানুষের মুক্তির জন্য ।আর বঙ্গবন্ধু এই স্বাধীনতার পথ দেখিয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে যখন বললেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।তখনই বাঙালির পূর্ণ স্বাধীনতার কথা আকাঙ্খা উচ্চারিত হয়েছিল।

 

বাঙালি জাতি সেদিনের ভাষণের পর বুঝে নেয়, বাঙালির এক হওয়ার আসলে কোনো বিকল্প নেই। তাদের এক হতে হবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতে হলে । বঙ্গ বন্ধুর নেই ভাষণে সেই ডাকই ছিল স্পষ্ট করে। আমরা আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি সেদিন আমাদের পূর্ব পুরুষেরা একত্রিত হয়েছিলেন বলেই ।

 

যুগে যুগে যেনো বাঙালির সেই একাত্মতা থাকে, পরস্পরের প্রতি সেই ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট থাকে এটাই আমাদের কাম্য।

Share.

Comments are closed.