Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin

সম্ভাবনা বাড়ছে সফটওয়্যার খাতে

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

ক্রমাগত বাড়ছে বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানি । এ খাতে রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে সাত গুণ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ পাঁচ বছরে ।খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৮ সাল নাগাদ সফটওয়্যার রপ্তানি ১০০ কোটি মার্কিন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করেন ।
আবার স্থানীয়ভাবেও সফটওয়্যারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটা, আবেদন-নিবন্ধন ও মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধ; বিভিন্ন ব্যাংক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মুঠোফোন কোম্পানির প্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত (আইটি) অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় ।
তবেএই খাতের উদ্যোক্তারা দেশি-বিদেশি বাজারের এই সম্ভাবনা ভালোভাবে কাজে লাগাতে শিগগিরই সঠিক নীতি-পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন । সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশ থেকে বছরে ২৫ কোটি ডলারের সফটওয়্যার রপ্তানি হয়; যা ২০০৯ সালে ছিল মাত্র ৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার।
বেসিসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এ খাতে কাজ করছে ৮২৩ প্রতিষ্ঠান। আড়াই লাখের বেশি লোক কর্মরত আছেন । সংগঠনটির নেতারা সঠিক পরিকল্পনায় এগোতে পারলে ২০১৮ সালের মধ্যে জনবল ১০ লাখে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করেন । সফটওয়্যারের অভ্যন্তরীণ বাজারটিও বেশ বড়, যার আকার ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ডলার। রপ্তানি আয় যোগ করলে এ খাতের আকার এখন ৭০ কোটি ডলারের।
সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো দুই রকমের কাজের ধরন অনুযায়ী —সরাসরি সফটওয়্যার উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, যেগুলোকে বলা হয় আইটি কোম্পানি এবং সফটওয়্যার-নিয়ন্ত্রিত সেবা প্রদানকারী বা আইটিইএস কোম্পানি। ৪৫ ভাগ আয় আসে সফটওয়্যার বিক্রি করে, বাকি ৫৫ ভাগ আয় আসে বেসিসের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর আইটিইএস-সংক্রান্ত সেবা থেকে।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, আইটি-সংক্রান্ত সেবা বা আইটিইএস, ই-কমার্সভিত্তিক ওয়েবসাইট সেবা, মুঠোফোনের অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন, আইটি অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি সেবা দিচ্ছে দেশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো ।
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে বহুজাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যার তৈরির পাশাপাশি এখন নিজেরাও সরাসরি এ দেশে বিনিয়োগ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত মুঠোফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এ দেশে একটি মুঠোফোন গবেষণা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেছে । এর নাম ‘স্যামসাং রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (এসআরবিডি)’।
২০১১ সালে কার্যক্রম শুরু করা স্যামসাংয়ের এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৫০০ জন প্রকৌশলী কাজ করেন; যাঁদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি। এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারের মুঠোফোনের জন্য সফটওয়্যার উন্নয়ন করা হয় এ প্রতিষ্ঠান থেকে।
বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে এমন আরেক প্রতিষ্ঠান মার্কিন প্রযুক্তি ও আউটসোর্সিং কোম্পানি অ্যাকসেনচার। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুঠোফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান জিপিআইটির ৫১ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়ে এ দেশে কার্যক্রম শুরু করে । বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে বিশ্বের ৫৬টি দেশে । প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের পরিমাণ ছিল তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার ২০১৪ সালে । গ্রামীণফোনের সব ধরনের সফটওয়্যার-সম্পর্কিত প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি নরওয়ের টেলিনর ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারও তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি । অ্যাকসেনচার পাশাপাশি ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন আউটসোর্সিং সেবাও (বিপিও) দিচ্ছে ।
সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দেশে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটার প্রসারেও ।মূলত সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল, বিক্রয়, এখানেই, এখনইর মতো জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টালগুলো তাদের পণ্য বিপণনে ।
অনেকটা সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল হালের ব্যাংকিং কার্যক্রমও ।এখন নির্দিষ্ট সফটওয়্যার দিয়ে করা হচ্ছে আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে হিসাব খোলা, নথিপত্র সংরক্ষণসহ অনলাইন ব্যাংকিংয়ের যাবতীয় কার্যক্রম ।
‘ওয়ান বাংলাদেশ’ কার্যক্রমের আওতায় বেসিস চারটি লক্ষ্য সামনে রেখে এখন কাজ করছে দেশের সফটওয়্যার-শিল্পকে এগিয়ে নিতে । এগুলো হলো: ২০১৮ সালের মধ্যে রপ্তানি ১০০ কোটি ডলার ও কর্মসংস্থান ১০ লাখে উন্নীত করা, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিবছর এক কোটি করে বাড়ানো ও দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপিতে) সফটওয়্যার খাতের অবদান ১ শতাংশে নিয়ে যাওয়া।
প্রতিষ্ঠানটি এ জন্য সরকারের সহযোগিতায় বেশ কিছু প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে । এর মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক, হাইটেক পার্ক নির্মাণসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্প। বেসিস চলতি মাসেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে ২৩ হাজার মানুষকে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে । বেসিসের নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ লোককে প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি চাকরি পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে জানান ।
বেসিসের সভাপতি শামীম আহসান বলেন, সফটওয়্যার রপ্তানি বাড়াতে ও এ খাতকে এগিয়ে নিতে সবার আগে একটি যৌথ বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন। যত দ্রুত সম্ভব সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্ক ও হাইটেক পার্কের কাজ শেষ করা দরকার। এতে দেশি–বিদেশি উভয় বিনিয়োগ বাড়বে। বেসিসের সভাপতি গণিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রতি জোর দিতে হবে বলে উল্লেখ করেন ।
বর্তমানে বিশ্বে বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি ডলারের সফটওয়্যার রপ্তানির বাজার রয়েছে। প্রতিবেশী ভারত এর মধ্যে একাই রপ্তানি করে আট হাজার কোটি ডলারের। শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন প্রভৃতি এ খাত থেকে ভালো আয় করছে এশীয় দেশও । ২০১১ সালে এ খাতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ৩০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকেও রেখেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার । বর্তমানে বিশ্বের ৩০টি দেশে সফটওয়্যার সেবা রপ্তানি করে বাংলাদেশ । সবচেয়ে বড় পাঁচটি বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ডেনমার্ক।

সুত্র :অনলাইন

Share.

Comments are closed.