Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin

প্রেমতো এমনি হওয়া উচিত, যেখানে সব বাঁধা পেছনে

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

তারিকুল হাসান, নিজস্ব প্রতিনিধি

মোবাইল ফোনে রং নম্বরে কল চলে যাওয়ার মাধ্যমে পরিচয়। সিলেটের সম্ভ্রান্ত পরিবারের তরুণী হালিমা নাসরিন ও সিরাজগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের যুবক সাদ্দাম হোসেনের। ফোনে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। সিলেটে থাকাকালে পরিচয় হলেও বছর তিনেক আগে নার্সিংয়ের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে আমেরিকায় যান নাসরিন। তবুও থেমে থাকেনি তাদের প্রেমের সম্পর্ক। আধুনিক প্রযুক্তির এ যুগে মোবাইল ফোনের ট্যাঙ্গোতে হতো নিয়মিত যোগাযোগ।

এক পর্যায়ে নাসরিনের পরিবারের সদস্যরা এ প্রেমের বিষয়টি জেনে যান। ছেলেটিকে ভুলে যাওয়ার জন্য পরিবার থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু তরুণী তার প্রেমের ব্যাপারে অটল। ওই যুবককেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এদিকে দীর্ঘ তিন বছর পর আমেরিকা থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন নাসরিন। আসেন প্রেমিক যুবক সাদ্দাম হোসেনও। নাসরিনের পরিবারের সদস্যরাও শাহজালালে এসে টের পান যে, তিনি সিলেট যাচ্ছেন না, ওই যুবকের সঙ্গে যাবেন। আর তাই তাকে সিলেটে নিতে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সহায়তা চান পরিবারের সদস্যরা। এ অবস্থায় বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সদস্যরা নাসরিনকে ডেকে নিয়ে আসেন কার্যালয়ে। কিছুক্ষণ পর নিয়ে আসা হয় ওই যুবককেও।নাসরিনের ভাই হেলাল তাকে অনুরোধ করতে থাকেন তাদের সঙ্গে সিলেটে যেতে। কিন্তু অনড় বোন বলেন, আমি সাবালিকা। আমার সিদ্ধান্ত, আমি যাকে ভালবাসি, তাকে বিয়ে করবো। মেয়ের সিদ্ধান্ত ও পরিবারের অনুরোধে বিব্রতবোধ করতে থাকেন দায়িত্বরত এএসপি আসমা আরা জাহান। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। এরপর ওই তরুণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে প্রেমিকের সঙ্গে যেতে দেওয়ার পরামর্শ দেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরামর্শ পেয়ে কর্তব্যরত অফিসার প্রেমিক যুবকের সঙ্গে ওই তরুণীকে যেতে দেন।সাদ্দাম হোসেন বলেন, তিন বছর ধরে আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। আমরা দু’জন আজ (বুধবার) বিয়ে করবো। আমার গ্রামের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলছে। তার প্রেমিকা হালিমা নাসরিন বলেন, আমি আমেরিকার গ্রিনকার্ডধারী নাগরিক। আমি আমার ভালোবাসার টানে দেশে এসেছি। সাদ্দামের সঙ্গে যেতে দেওয়ার জন্য আমি আর্মড পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সিনিয়র এএসপি আলমগীর হোসেন শিমুল বলেন, আমরা মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করি, সে তার পরিবারের সঙ্গে যাবে কি না। সে বলে, আমি এডাল্ট। আমি আমার প্রেমিকের সঙ্গে যাবো। আজ আমরা দু’জন বিয়ে করছি। এ অবস্থায় আমাদের করার কিছু নেই। তাই আমরা তাদের নিরাপদে বিমানবন্দর ত্যাগে সহায়তা করেছি, বলেন তিনি।

Share.

Comments are closed.