সরকারী সাশ্রয়ী মূল্যে চাল-আটা পাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ৫ লাখ পোশাক কর্মী

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

সাব্বির আহমেদ সেন্টু, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

সরকারের দেয়া ভর্তুকিসহ সাশ্রয়ী মূল্যে প্রধান দুটি খাদ্যপণ্য চাল ও আটা পেতে যাচ্ছেন তৈরি পোশাক খাত ও নীটওয়্যার শিল্পে কর্মরত নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় ৫ লাখ পোশাক কর্মী। চাল সর্বোচ্চ ১৫ টাকা ও আটা সর্বোচ্চ ১২ টাকা কেজিদরে এসব শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে সরবরাহ করা হতে পারে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। জানা গেছে, খাদ্য বিভাগের উদ্যোগে আগামী মাসের শুরুতেই এ কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হবে।

খাদ্য অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সরবারহ করা হরে তৈরি পোশাক ও নীটওয়্যার শিল্পের কর্মীদের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অপুষ্টি হ্রাস; আয় ও স ল বৃদ্ধি; স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় চিকিৎসা খরচ হ্রাস; নারীর ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়া শক্তিশালী; মালিক শ্রমিকের সম্পর্কোন্নয়ন সর্বোপরি শিশু অপুষ্টির হার অনেক কমে আসবে।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক অগ্রগতি সাধন ও নারীর ক্ষমতায়নে এই দুই শিল্পের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ন। কিন্তু এসব শিল্প নানা সংকটে জর্জরিত। তাদের উপার্জনে অনেক ক্ষেত্রেই জীবন ধারন করা কঠিন হয়ে পরে। এমতাবস্তায় মজুরী বৃদ্ধির জন্য দরকষাকষি অনেক সময় সহিংসতার রুপ নেয়। সার্বিক পরিস্তিতি বিবেচনায় নিয়ে অতি গুরুত্বপূর্ন এই দুই শিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এবং এসব শিল্পে কর্মরতদের জীবন মানোন্নয়নের সরকার ভুর্তকি মূল্যে খাদ্য সরবারহ করতে পারে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তবনা গত বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) জি এম ফারুক জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিকেএমইএ’র আওতাধীন ৮৪২ টি গার্মেন্ট কারখানায় প্রায় ৫লাখ পোশাক কর্মী কর্মরত আছেন। পোশাক কর্মীদের জন্য সরকার সাশ্রয়ী মূলে চাল ও আটা বিক্রয়ের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর ফলে কর্মীদের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অপুষ্টি হ্রাস পাবে।

পরিবারপ্রতি খাদ্য বিভাজন: নারায়ণগঞ্জ , সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, টঙ্গী, শ্রীপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, সোনারগাও, রুপগঞ্জ, উত্তরা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ ও খুলনায় স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আপাতত এর আওতায় আসছেন। বিকেএমইএর তথ্যমতে, এই ২০ জেলায় অতন্ত ৩৫ লাখ ৫৩ হাজার ৮৬২ কর্মী কাজ করছেন। তাদের পরিবারে প্রতিমাসে কমদামে ১০ কেজি চাল ৫ কেজি আটা সরবারহ করা হলে মাসে ৩৫ হাজার ৫৩৯ টন চাল এবং ১৭ হাজার ৭৬৮ টন আটার দরকার হবে। সেই হিসাবে বছরে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৮ ও ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯২৪ টন গমের প্রয়োজন হবে।

বাস্তবায়নে যেভাবে: প্রতিটি কারখানা কর্তৃপক্ষ বিজিএমই ও বিকেএইএর মাধ্যমে কর্মী তালিকা খাদ্য অধিদপ্তরে সরবরাহ করবে। অনুমোদিত তালিকার ভিত্তিতে কারখানার কর্তৃপক্ষ ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব করবে। প্রতি প্রতিষ্ঠান একজন করে ডিলার পাবে। তবে কর্মী বেশি হরে এ সংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য বিভাগের ওএমএস ডিলার নিয়োগের পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শও দেওয়া হয় প্রস্তাবনায়। এরপর কারখানা কর্তৃপক্ষের চাহিদা/প্রত্যয়নের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তার সুপারিশ মতে খাদ্য বিভাগের ডিলাদের প্রয়োজনীয় খাদ্যের বরাদ্দ দেয়া হবে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথভাবে খাদ্য বিতরণ প্রক্রিয়া তদারকি করবেন।

খাদ্য উত্তোলন ও বিতরন: মনোনীত ডিলার মাসিক বরাদ্দকৃত খাদ্য উত্তোলন করে নিজস্ব গুদামে মজুদ করে কারখানা কর্তৃপক্ষের মনোনীত কর্মকর্তা কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র নেবেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষেই খাদ্য বিতরন হবে। ডিলাররা বিজিএমই ও বিকেএমইএ অনুমদোদিত সংশ্লিষ্ট কারখানার কর্মীদের পরিচয় পত্র দেখে মালামাল সরবরাহ করবেন। মাস্টাররোলে শ্রমিকের পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ থাকবে।

Share.

Comments are closed.