Visit Us On TwitterVisit Us On FacebookVisit Us On GooglePlusVisit Us On PinterestVisit Us On YoutubeVisit Us On Linkedin

নানির পেট থেকে জন্ম নিল নাতনি

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

তারিকুল হাসান, নিজস্ব প্রতিনিধি

শুনতে অবাক লাগতেই পারে। কারন অবাক লাগার মত একটি কথা। তবে সত্যি সত্যিই নানির পেটে জন্ম নিয়েছে নাতনি। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের মেডিকেল সেন্টার অব প্ল্যানো এমন ঘটনারই সাক্ষী হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী কেলি ম্যাককিসাকের পর পর তিনবার গর্ভপাত হলে শেষ পর্যন্ত কেলিরমা ট্রেসি থম্পসন মেয়ের ভ্রূণকে ধারণ করেন নিজের গর্ভে। তারই ফলাফল হিসেবে গত ৬ই জানুয়ারি জন্ম নেয় কেলি-অ্যারন দম্পতির কন্যা কেলসি ম্যাককিসাক। সিএনএনের খবরে প্রকাশ, কেলি ও অ্যারন ম্যাককিসাক তিন বছর ধরেই সন্তান ধারণের চেষ্টা করছেন। ডাক্তারদের পরামর্শক্রমে বেশ কিছু চিকিৎসারমাধ্যমে কেলি গর্ভধারণ করলেও তিন তিনবার গর্ভপাত হয় তার। ২০১৪ সালের বড়দিনে শেষ গর্ভপাতের ঘটনায় মুষড়ে পড়েন ম্যাককিসাক দম্পতি। আর তখনই তাদের সহায় হয়ে এগিয়ে আসেন কেলির মা ট্রেসি থম্পসন। শেষবার কেলি ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতে গর্ভধারণ করেন। এ পদ্ধতিতে ডিম্বাশয় থেকে পরিপক্ব ডিম্বানু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে শুক্রানুর মাধ্যমে তাকে নিষিক্ত করা হয়। কেলির জন্য এ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় পাঁচটি ভ্রূণ। তার মধ্যে চারটি ভ্রূণ রয়ে যায়। এর মধ্য থেকেই একটি ভ্রূণ নিজের গর্ভে ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রেসি। একে অবশ্য মেয়ের কাছে নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা হিসেবেই দেখছেন। সিএনএনের সহযোগী কেটিভিটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রেসি বলেন, ‘ছোটবেলা কেলি প্রায়ই বলত, ‘আমি যদি সন্তান ধারণ না করতেপারি, তুমি কি আমার জন্য সন্তান ধারণ করবে?’ তার প্রশ্নের উত্তরে আমি বলতাম, অবশ্যই করবো। কেলিকে দেয়া সেই প্রতিশ্রুতি আমি বাস্তবেই রাখতে পেরেছি।’ নিজের সন্তানের জন্য সন্তান জন্ম দিতে পারাকে ট্রেসি আশীর্বাদ হিসেবেই অভিহিত করেছেন। কেলি ও অ্যারন দম্পতি ও ট্রেসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকেল সেন্টার অব প্ল্যানো গত বছরের এপ্রিলে ট্রেসির গর্ভে কেলি-অ্যারনের ভ্রূণ সফলভাবে স্থাপন করে। এর আগে অবশ্য ট্রেসিকে নানা ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিছু চিকিৎসাও নিতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত সফলভাবেই তিনি নিজের গর্ভে ধারণ করতে থাকেন নাতনিকে। এক দম্পতির ভ্রূণ এভাবে অন্য কেউ গর্ভে ধারণ করলে তাকে ‘সারোগেট মাদার’ বলা হয়ে থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায়। এ সারোগেট মাদারের গর্ভেই গত সপ্তাহে জন্ম হয় এ নাতনির। তার নামটিও রাখা হয়েছে কেলি আরট্রেসির নামের সঙ্গে মিলিয়েই। কেলির ‘কেল’ আর ট্রেসির ‘সি’ নিয়ে তার নাম রাখা হয়েছে কেলসি। কেলসির জন্মে খুশিরবন্যা কেলির মধ্যেও। কেলি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় যে উপহারটি আমি পেতে পারতাম, সেটিই আমাকে দিয়েছে আমার প্রিয় মা।’ কেলসির জন্মদানের গোটা প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধান করেছেন মেডিকেল সেন্টার অব প্ল্যানোর স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ড. জোসেফ লেভোনো। তিনি মনে করছেন, কেলি-অ্যারন দম্পতি ও ট্রেসির এঘটনা সন্তান ধারণে অক্ষমদের জন্য সুখবর বয়ে নিয়ে এসেছে।বর্তমানে প্রায় ছয় ভাগের একভাগ দম্পতিই সন্তান ধারণে জটিলতায় ভুগে থাকেন। তাদের জন্য ট্রেসির মতো ‘সারোগেট মাদার’রা সহায় হয়ে আসতে পারেন। সারোগেট মাদার হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাধা হয়ে আসতে পারে। তবে মেডিকেল সেন্টারটি বলছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উত্তোরোত্তর অগ্রগামিতায় উপযুক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে অনেক প্রতিবন্ধকতাই অতিক্রম করা সম্ভব।

Share.

Comments are closed.