বাংলাদেশের জয় দিয়েই শুরু ওয়ালটন টি-টোয়েন্টি সিরিজ

0

আলোরপথ টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ

স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশ ওয়ালটন টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় দিয়েই শুরু করল।মাশরাফি বিন মুর্তজার দল চার ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে। শুক্রবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে জিম্বাবুয়ে করে ১৬৩ রান। জবাবে বাংলাদেশ সাব্বিরের ৪৬, মুশফিকের ২৬ ও সাকিবের অপরাজিত ২০ রানের সুবাদে ৪ উইকেট ও ৮ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় লক্ষ্যে।

১৬৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালোই হয়। উদ্বোধনী জুটিতে তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার মিলে ৩ ওভারে ২৬ রান তোলেন। তবে পরের ওভারে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সৌম্য কাটা পড়েন রানআউটে। লুক জংউইয়ের বল শর্ট ফাইন লেগে তামিম শট খেলেছিলেন। তবে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে বলটি থামিয়ে দেন।

ওদিকে তামিম প্রথমে ‘কল’ করেও থামিয়ে দিয়েছিলেন সৌম্যকে, কিন্তু অন স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা সৌম্য স্ট্রাইকিং প্রান্তে চলে আসেন।দুই ব্যাটসম্যান একই প্রান্ত! মাসাকাদজার থ্রো থেকে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দিতে বোলার জংউই কোনো ভুল করেননি।৭ রান আসে সৌম্যর ব্যাট থেকে।

সৌম্য বিদায় নিলেও সাব্বির রহমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে তামিম ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু জিম্বাবুইয়ান স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমারের একটি বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অফ থেকে দৌড়ে আসা সিবান্দার হাতে তামিম ধরা পড়েন ।এই বাঁহাতি ২৪ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ২৯ রান করেন। ২৭ রান আসে সাব্বিরের সঙ্গে তার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে।

মোটেই ভালো করতে পারেননি টি-টোয়েন্টি অভিষিক্ত শুভাগত হোম।এই ডানহাতি ৬ রান করেই শন উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হন। শুভাগত ফিরলেও চতুর্থ উইকেটে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন সাব্বির রহমান ও মুশফিকুর রহিম মিলে।দুজন চোখ জুড়ানো কয়েকটি চার মারেন।

সাব্বির বিশাল এক ছক্কাও মারেন ইনিংসের ১৫তম ওভারে ক্রেমারের বলে কাউ কর্নারের ওপর দিয়ে। কিন্তু পরের বল আবারও ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ধরা পড়েন ডিপ মিড উইকেটে ওয়ালারের হাতে।সাব্বির খেলেন ৩৬ বলে ৪টি চার ও এক ছক্কায় ৪৬ রানের ইনিংস।৪৪ রান আসে মুশফিকের সঙ্গে তার জুটিতে।

সাব্বিরের বিদায়ের পরের ওভারে অবশ্য সাজঘরে ফেরেন মুশফিকও।মুশফিক স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে ডিপ মিড উইকেটে সিকান্দার ক্যাচে পরিণত হন। ১৯ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ২৬ রান করেন মুশফিক। কিন্তু পর পর দুই ওভারে উইকেটে থিতু হওয়া দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বাংলাদেশ ভীষণ চাপে পড়ে যায়।

এরপর মাহমুদউল্লাহ ক্রিজে এসে জংউইয়ের একটি বলে কভারের ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকালেও বোল্ড হয়ে যান পরের বলেই। ফলে স্বাগতিকদের চাপটা আরো বেড়ে যায়।

এর আগে শুক্রবার টস জিতে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন।দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ভুসি সিবান্দা অধিনায়কের সিদ্ধান্তের সঠিক জবাবও দেন। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন মিলে বড় জুটি গড়েন ৭২ বলে ১০১ রানের।

সাকিব আল হাসান সিবান্দাকে (৪৬) ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন। সাকিবের মিডল স্টাম্পের বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে সিবান্দা পরিণত হন তামিম ইকবালের চমৎকার ক্যাচে। তবে মাসাকাদজা ম্যালকম ওয়ালারের সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্যারিয়ারের নবম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন। অবশ্য খানিক বাদে ২৬ রানের এ জুটিও ভেঙে যায় ওয়ালার রানআউটে কাটা পড়লে। সাব্বির রহমানের থ্রো থেকে অভিষিক্ত উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান ম্যালকম ওয়ালারকে রানআউট করেন।

ওয়ালার ফিরলেও আরো বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন ফিফটি করা মাসাকাদজা। তবে অভিষিক্ত উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান ব্যক্তিগত ৭৯ রানে তাকে সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট করেন। ৫৩ বলে ৯টি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে মাসাকাদজা ৭৯ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন।

পেসার মুস্তাফিজুর রহমান পরের ওভারে জাদু দেখান।বাংলাদেশের এই তরুণ তুর্কি পর পর দুই বলে দুটি বোল্ড করেন। প্রথমে জিম্বাবুইয়ান অধিনায়ক এল্টন চিগুম্বুরা তারপর লুক জংউইয়ের স্টাম্প ভেঙে দেন মুস্তাফিজ।

এরপর ইনিংসের শেষ ওভারে ২ উইকেট নেন আরেক পেসার আল-আমিন হোসেনও। ফলে স্বাগতিকরা জিম্বাবুয়েকে ১৬৩ রানেই বেঁধে ফেলতে সক্ষম হয়।সফরকারীরা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে এ রান করে।

জিম্বাবুয়ের ওপরের তিন ব্যাটসম্যান ছাড়া আর কেউই ছুঁতে পারেননি দুই অঙ্ক! বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ ১৮ রানে ২টি ও আল-আমিন ২৪ রানে ২ উইকেট নেন। সাকিবের ঝুলিতে একটি উইকেট জমা পড়ে।

বাংলাদেশ দলে অলরাউন্ডার শুভাগত হোম ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের অভিষেক হয়েছে। শুভাগতর ৭টি টেস্ট ও ৪টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ সোহানের। বাংলাদেশের একাদশের বাইরে আছেন ইমরুল কায়েস, আরাফাত সানী ও আবু হায়দার রনি।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, নুরুল হাসান সোহান (উইকেটরক্ষক), মাশরাফি বিন মুর্তজা, আল-আমিন হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও শুভাগত হোম।

জিম্বাবুয়ের দল: ভুসি সিবান্দা, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, শন উইলিয়ামস, পিটার মুর, সিকান্দার রাজা, ম্যালকম ওয়ালার, এল্টন চিগুম্বুরা, ব্রায়ান ভেট্টরি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, লুক জংউই ও গ্রায়েম ক্রেমার।

Share.

Comments are closed.