16 C
Dhaka
January 18, 2022
আলোর পথ

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হলো, ইতিহাস ধরা দিলো হাতে। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন, উপমহাদেশের বড় বড় দলগুলো যেখানে নাকানি-চুবানি খায়। সেখানে ইতিহাস গড়ে জিতলো বাংলার দামাল ছেলেরা।

আজ (বুধবার) মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট ৮ উইকেটে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। তাতে এই প্রথম নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয়ের দেখা পেলো বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩২ ম্যাচ খেলেছে সফরকারীরা। সময়-ক্ষণ আলাদা হলেও সব ম্যাচে একই পরিণতি! হতাশায় মাথা নিচু করে হারের ব্যর্থতায় মাঠ ছাড়তে হয়েছে বারবার। এবারের সফরে প্রথম টেস্ট দিয়ে সেই আক্ষেপ-হতাশা দূর করলো মুমিনুলরা।

এই জয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও পেলো প্রথম পয়েন্টের দেখা।

বহুপ্রতীক্ষিত সেই মুহূর্তটা যেনতেনভাবে আসেনি, আধিপত্য বিস্তার করা জয় বলতে যা বোঝায়, বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে ঠিক সেই পথে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কিউইদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে করা ব্যাটিং-বোলিংয়ে তৈরি হয়েছে ঐতিহাসিক জয়ের মঞ্চ। ৩২৮ রানে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে ৪৫৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়া। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে কিউইদের গুঁড়িয়ে দিয়ে ১৬৯ রানে অলআউট করে মাত্র ৪০ রানের লক্ষ্য পেলে জয়টা আসলে তখনই একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল মুমিনুলদের। বাকি আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক মুমিনুল নিজে।

সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে টিম সাউদি শুরুতে একটু কাঁপন ধরালেও সেটি একেবারেই গায়ে লাগেনি। সাদমান ইসলাম (৩) দ্রুত ফেরার পর জয়ের একেবারে কাছাকাছি গিয়ে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। কাইল জেমিসনের বলে স্লিপে রস টেলরের হাতে ধরা পড়ার আগে শান্ত ৪১ বলে ৩ বাউন্ডারি করেন ১৭ রান। এরপর মুশফিকের বাউন্ডারিতে আসে ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্ত। ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। আর মুমিনুল ১৩ রান করে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ৩২৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৩.৪ ওভারে ১৬৯ (উইল ইয়ং ৬৯, রস টেলর ৪০, রাচিন রবীন্দ্র ১৬, টম ল্যাথাম ১৪, ডেভন কনওয়ে ১৩; এবাদত হোসেন ৬/৪৬, তাসকিন আহমেদ ৩/৩৬, মেহেদী হাসান মিরাজ ১/৪৩)।

বাংলাদেশ: ৪৫৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে (লক্ষ্য ৪০ রান) ১৬.৫ ওভারে ৪২/২ (নাজমুল হোসেন শান্ত ১৭, মুমিনুল হক ১৩*, মুশফিকুর রহিম ৫*, সাদমান ইসলাম ৩; কাইল জেমিসন ১/১২, টিম সাউদি ১/২১)।

ফল: বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: এবাদত হোসেন।

সিরিজ: দুই ম্যাচের সিরিজ বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে।